কিশমিশের ব্যবহার জানেন কি?

কিশমিশ স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। প্রতিদিন কিছু পরিমান কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। বিভিন্ন রকমের ডেজার্ট তৈরির সময়ই আমরা কিশমিশ বেশি ব্যবহার করে থাকি। তবে মিষ্টি স্বাদের ছোট এই ফলটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এর রয়েছে অনেকগুলো পুষ্টিগুণ।শুধু কিশমিশ খেলে দাঁতের ক্ষতি হয় এমন ধারণাও রয়েছে আমাদের মধ্যে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। কিশমিশ খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কিশমিশের কিছু খুবই উপকারী গুণের ব্যবহার রয়েছে ।

১. বয়সের ছাপ:  কিশমিশে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মানব দেহের কোষগুলোকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বক সুস্থ সজীব রাখে, বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

২. দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা:  কিশমিশ মিষ্টি স্বাদের খাবার হলেও দাঁত বা মুখের কোনো ক্ষতি করে না। কিশমিশে থাকা চিনি দাঁতের জন্য ক্ষতিকর এমন ধারণা অনেকেরই।এর মধ্যে আছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ওরাল যা ব্যাকটেরিয়া নিমূর্ল করতে সাহায্য করে। কিশমিশের শর্করা মূলত ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ জাতীয়। ওলিনোলিক অ্যাসিড যা মুখের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয় এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধে কাজ করে। সকালের নাশতা অথবা দুপুরের সালাদে কিশমিশ রাখতে পারেন সহজে।

৩. উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কিশমিশের পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া রক্ত থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা প্রতিরোধ করে।
 
৪. ফলের বিকল্প: দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা ও ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত নানা রকম ফল খেতে বলা হয়। কারণ এগুলোতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, বিটা ক্যারোটিন ইত্যাদি। সঠিক পরিমাণে এগুলো পেতে হলে দিনে অন্তত ৩/৪ টি ফল খেতে হবে। সব সময় তা সম্ভব হয় না। তখন ই খেয়ে নিতে পারেন একমুঠো কিশমিশ।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্য:  ফ্যাটবিহীন ফাইবার সমৃদ্ধ কিশমিশ হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠাকাঠিন্য দূর করে। এ ছাড়াও কিশমিশের টারটারিক এসিড হজম সমস্যা দূর করে পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা করে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচাইতে বেশি কার্যকরী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কিশমিশ খুব কাজে দেয়। তাই রোজ খানিকটা কিশমিশ খান।

৬. রক্তস্বল্পতা: কিশিমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাশিয়াম। দেহে আয়রনের অভাবের ফলে রক্তস্বল্পতার সমস্যা শুরু হয়। কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা আমাদের দেহের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। কিশিমিশ রক্তের সংবহন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।


এছাড়া ও কিশমিশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। এগুলো অ্যাসিডিটি কমায়, কিডনির পাথর, হৃদরোগর ঝুকিঁ কমায়। কিশমিশে রয়েছে বোরন যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জ্বর, ঠাণ্ডা ও অন্য সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।   ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কিসমিস খাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.